ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন ২৬ কার্যদিবস চলার পর সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত ঘোষণা পাঠ করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
গত ৭ জুন শুরু হওয়া দীর্ঘ এ অধিবেশনে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়ন করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেট অধিবেশনে মোট ২৬টি কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিবেশনজুড়ে সংসদীয় কার্যক্রমের প্রধান দিকগুলো হলো:
বাজেট আলোচনা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর ১৪ কার্যদিবস ধরে সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট স্থায়ী এই আলোচনায় ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
আইন প্রণয়ন: অধিবেশন চলাকালে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়েছে।
কমিটি গঠন: সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কার্য উপদেষ্টা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও নোটিশ জমা পড়ে:
প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন: প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে।
মন্ত্রীদের প্রতি প্রশ্ন: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের জন্য মোট ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়েছে।
অন্যান্য নোটিশ: কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী ৭১৫টি নোটিশ জমা পড়ে, যার মধ্যে ২৪টি গৃহীত হয় এবং ২২টি নোটিশের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া ৭১(ক) বিধি অনুযায়ী দুই মিনিটের ১২৫টি নোটিশ উত্থাপন ও আলোচিত হয়েছে। অন্যদিকে, ১৩১ বিধি অনুযায়ী চারটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও নিষ্পত্তি হয়েছে।
চলতি বাজেট অধিবেশনটি দেশের সংসদীয় ইতিহাসে সরকারি কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাজেট বাস্তবায়নের পথপ্রস্থতকারী হিসেবে চিহ্নিত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেএস